দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের রাজনীতিতে আর রক্তপাত নয়, বরং সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে নিজেদের রাজনীতি ও মতাদর্শ প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সর্বস্তরের মানুষের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না। যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটি সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চান তিনি।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটি মির্জা ফখরুলের প্রথম নিজ জেলা সফর। দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান তিনি। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের শৈশব, স্কুলজীবন ও প্রিয় শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তাঁর জন্ম ও শৈশব ঠাকুরগাঁওয়ে কেটেছে। স্কুলজীবনে রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যার তাঁকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন এবং সততা ও নেতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া শিক্ষা তিনি কখনো ভুলবেন না।
তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবার মধ্যে ঐক্য ও ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ এসেছে। তাই সংঘাত ও প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো বিভেদ তিনি দেখতে চান না। সবাইকে একসঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বসবাস করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন; কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। মেডিকেল কলেজের দাবিও পূরণ হয়েছে এবং জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ভূল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক উপজেলা করার দাবিও পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সেখানে ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু ও শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষ বেশি উপকৃত হবেন। তবে বিমানবন্দর চালু রেখে ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও কম। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব শিগগির কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কিছু বিনিয়োগকারীকে ঠাকুরগাঁওয়ে আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও থেকেই কার্যক্রমটি শুরু করার কথা রয়েছে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের পায়ে নিজেকে দাঁড়াতে হবে। শুধু চাকরি ও ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।
এমএস/